পাকিস্তান ভুলতে বসেছিল এমন রেকর্ড গড়লেন পেসার রাজাউল্লাহ

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কিছু সময়ের জন্য হয়তো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পেল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে হেরে দল সিরিজের মাঝপথেই আচমকা স্কোয়াডের সাত ক্রিকেটার বদলে ফেলে পিসিবি। ঘরে-বাইরে তুমুল সমালোচনা হয় সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে। এদিকে, নতুন করে পাকিস্তান দলে ডাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে অভিষেক ম্যাচেই পেসার রাজাউল্লাহ স্মরণীয় ব্যাটিং উপহার দিয়েছেন।

২১ বছর বয়সী এই পেসারের শুরুটা হয়েছিল স্মরণীয় উইকেট দিয়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি প্রথম উইকেট তুলে নিলেন জো রুটকে এলবিডব্লিউ করে। ধারাবাহিকভাবে ১৪০–এর ওপর গতি দিয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। চলমান এজবাস্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসে রাজা নিয়েছেন ৪ উইকেট। যা পাকিস্তানের পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। এরপর করলেন রেকর্ডগড়া ব্যাটিং।

পুরো সিরিজজুড়ে ধারাবাহিক বিপর্যয়ের শিকার পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। তৃতীয় ও শেষ টেস্টে আরেকবার তাদের ব্যাটিং দুর্ভোগ দেখার অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের প্রথমে চমকে দেয় আজান আওয়াইস ও শান মাসুদের ব্যাট। তাদের পথ ধরে হাফসেঞ্চুরি করেছেন অধিনায়ক বাবর আজমও। তবে মূল বিস্ময়টা তুলে রেখেছিলেন ম্যাচটিতে অভিষেক হওয়া পেসার রাজাউল্লাহ। তার রেকর্ড ৯ ছক্কার ইনিংসেই মূলত ইংলিশদের লিড পেরোল পাকিস্তান।

রাজাউল্লাহকে নিয়ে বেশ চমকপ্রদ একটি তথ্য হাজির করেছেন দেশটির ক্রিকেট ডাটা ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষক মাজহার আরশাদ। তার তথ্যমতে– গত ১৫ বছরে পাকিস্তানের কোনো ব্যাটার পুরো টেস্ট ক্যারিয়ারে পেসারদের বিপক্ষে ৮টি ছক্কা মারতে পারেননি। আর রাজাউল্লাহ এক ইনিংসে ইংলিশ পেসারদের ৮টি ছক্কা হাঁকালেন। এর মধ্যে গাস অ্যাটকিনসন ও জফরা আর্চারের এক ওভারে দু’বার করে এমন অভিজ্ঞতা দিলেন তিনি।

পাকিস্তানের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটার বাবর আজমও আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারে পেস বলে একমাত্র ছয় মেরেছেন (আর্চারের বলে) এই ইনিংসে। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে রাজা ৯ এবং মোহাম্মদ আব্বাস মেরেছেন ২ ছক্কা। ১৪৯ বছরের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবার শেষ তিন ব্যাটার মিলিয়ে ইনিংসে ১১ ছক্কা হাঁকানোর নজির দেখল এজবাস্টন।

টেস্ট অভিষেকে সর্বোচ্চ ৯টি ছক্কার রেকর্ড গড়েছেন রাজা। তার আগে অবশ্য ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের সাবেক তারকা পেসার টিম সাউদিও অভিষেক ম্যাচে ৯টি ছক্কা হাঁকান, কাকতালীয় সেই ম্যাচেও প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের অভিষিক্ত ক্রিকেটার হিসেবে রাজার ৪৩ বলে ফিফটি সবচেয়ে দ্রুততম। এর আগে ফাহিম আশরাফ করেছিলেন ৫২ বলে। এ ছাড়া দেশটির অভিষিক্ত ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮১ রানের ইনিংসটা এখন রাজার। ৬৩ বলে ৪ চার ও ৯ ছক্কায় তিনি ওই ইনিংস সাজান।

রাজার ৮১, আব্বাসের ৪২ রান ছাড়াও শান মাসুদ, বাবর আজম, আজান আওয়াইসের ফিফটিতে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪৯ রান তোলে। যাতে ভর করে এর আগের পাঁচ ইনিংসেই দুইশ’র আগে অলআউট হওয়া সফরকারীরা ১২৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছে ইংল্যান্ডকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *