ইকুয়েডরের কাছে আরো একটি নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী

ইকুয়েডরের কাছে আরো একটি নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) চালানো এই হামলায় নৌকাটি ডুবে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নৌকাটি ‘লস চোনেরোস’ নামে একটি অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচারে ব্যবহৃত নৌকার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা।

মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের যৌথ টাস্কফোর্স পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে অবৈধ মাদক পাচারে সহায়তাকারী একটি ভাসমান জ্বালানি স্টেশন আটক করেছে। নৌকায় থাকা লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পরে তাদের ইকুয়েডর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

হামলার সঙ্গে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন সামরিক সদস্য একটি নৌকায় উঠছেন। এরপর একটি হেলিকপ্টার নৌকাটির ওপর দিয়ে উড়ে যায়। পরে একটি গোলা নৌকাটিতে আঘাত করলে সেটি ডুবে যায়।

সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, পশ্চিম গোলার্ধে মাদক পাচারে সহায়তাকারী সরবরাহ নেটওয়ার্কগুলো ধ্বংস করতে তারা সুনির্দিষ্ট ও পেশাদার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ইকুয়েডর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। 

ডুবে যাওয়া নৌকাটির নামও প্রকাশ করা হয়নি। গত দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হওয়া পঞ্চম জাহাজ। এর আগে গত সপ্তাহে প্রশান্ত মহাসাগরে ‘মারিয়া কান্দেলারিয়া’ নামে একটি মাছ ধরার জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে।ইকুয়েডরের নৌবাহিনী পরে ওই জাহাজের ২৬ জন নাবিককে খুঁজে পায়। তারা রবিবার ইকুয়েডরের বন্দরনগরী মান্তায় পৌঁছান।

এ ছাড়া ‘কনকুইস্তা ২’ নামের একটি জাহাজের আটজন জেলেকেও খুঁজে পাওয়া গেছে। তাদের পরিবারের সদস্যরা এর আগে তাদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। অন্য দুটি জাহাজের নাম ‘ওএম২’ ও ‘লস ট্রেস হারমানোস’।

এসব জাহাজের নাবিকদের দাবি, মার্কিন বাহিনীর অভিযানে জাহাজ দুটি ডুবে গেছে। তবে সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জাহাজগুলোকে অবৈধ মাদক পাচারে জড়িত বিভিন্ন নৌযানের জন্য ভাসমান জ্বালানি স্টেশন হিসেবে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামলার শিকার সব নৌকাই ‘লস চোনেরোস’ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র এই গোষ্ঠীকে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এ বছর মার্কিন বাহিনীর আটক করা আরো তিনটি জাহাজের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এসব জাহাজের ইকুয়েডরীয় নাবিকরা জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী তাদের আটক করেছিল। এর মধ্যে ‘ফিওরেলা’ নামের একটি জাহাজের আটজন জেলে জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। অন্য দুটি জাহাজের নাবিকদের এল সালভাদরে পাঠানো হয়েছিল। পরে তারা ইকুয়েডরে ফিরে আসেন।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌযান লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী ৬৮টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ২২৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলাগুলোর বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। 

সমালোচকদের দাবি, নৌযানগুলোতে হামলা চালানোর আগে সেগুলো মাদক পাচার বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল কি না, তা যথেষ্টভাবে যাচাই করা হচ্ছে না। অন্তত একটি ঘটনার ক্ষেত্রে ইকুয়েডর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ তারা পায়নি।

এদিকে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে স্থলভাগে অভিযান বাড়ানোর জন্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি করার চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ চলতি মাসে পানামা সফরের সময় বলেন, কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাস তাদের নিজ নিজ ভূখণ্ডে অপরাধীগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান চালাতে সম্মত হয়েছে। তবে গুয়াতেমালা সরকার এ ধরনের কোনো চুক্তি হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে ইকুয়েডর গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই ধরনের যৌথ অভিযান শুরু করে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচার ও অপরাধীগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান আরো জোরদার করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *