ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরের পথচলা কি তবে শেষের দিকে? সাবেক আইনি কর্মকর্তা ও ক্রীড়া আইন বিশেষজ্ঞ সাদ আল-সাবাইয়ের বিস্ফোরক মন্তব্য কিন্তু তেমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে। তার মতে, আল নাসরের বর্তমান আর্থিক অনিয়ম ও তদারকিসংক্রান্ত জটিলতার দ্রুত সমাধান না হলে, খেলোয়াড় কিংবা প্রশাসনিক কোনো ভূমিকাতেই ক্লাবটিতে রোনালদোর দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত নয়।
সমস্যাটা অবশ্য হুট করে তৈরি হয়নি। পুরো গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারজুড়ে স্কোয়াড শক্তিশালী করার অনুমোদনের জন্যই সৌদি কর্তৃপক্ষের দরজায় কড়া নাড়তে হয়েছে ক্লাবটিকে। তবে আল-সাবাই স্পষ্ট করেছেন, এই সংকট শুধু নতুন ফুটবলার কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, রোনালদোর চুক্তি এবং ক্লাবে তার শেয়ারের মালিকানার ওপরও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডে (পিআইএফ) আরোপিত বিধি-নিষেধের কারণে পৃষ্ঠপোষকতা বা নিজস্ব আয় থেকে পর্যাপ্ত অর্থ সংস্থান না দেখানো পর্যন্ত নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আল নাসরের ওপর।
ইতিমধ্যেই সৌদি প্রো লিগের ফাইন্যান্সিয়াল কন্ট্রোল কমিটি ক্লাবটির ১৮ জন তরুণ খেলোয়াড়ের চুক্তি নবায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এমনকি মূল দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আব্দুর রহমান গরিব ও গোলরক্ষক রাঘেদ আল-নাজ্জারের চুক্তি নবায়নও আটকে রয়েছে।
বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলেছে ক্লাবে রোনালদোর শেয়ারের অংশীদারিত্ব। ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ থাকার পাশাপাশি ক্লাবটির প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ শেয়ারের মালিক পর্তুগিজ এই মহাতারকা।
২০২৫ সালের জুনে চুক্তি নবায়নের সময়ই এই স্বত্ব লাভ করেছিলেন তিনি।
বর্তমানে কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ক্লাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করছে পিআইএফ। এই বিক্রি প্রক্রিয়া কিভাবে সম্পন্ন হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে মাঠে রোনালদোর থাকা কিংবা ক্লাবের মালিকানায় তার ভবিষ্যৎ অবস্থান।
