‘মিডিয়ার রিপোর্টের সঙ্গে দুদকের রিপোর্টের মিল নেই,’ দুদক নিউজ ডিলিট না করালে মানহানির মামলা করব: আসিফ মাহমুদ

নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তার দাবি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রকৃত প্রতিবেদনের মিল নেই।

দুদক যদি প্রকাশিত সংবাদ সরিয়ে না নেয়, তাহলে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘দুদকের মুখপাত্র যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার বক্তব্য উইথড্র না করেন, তার বক্তব্যের বরাদ দিয়ে যে নিউজগুলো হয়েছে সেগুলো উইথড্র না করেন, তাহলে আমি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এনসিপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘মিডিয়ার রিপোর্টের সঙ্গে দুদকের রিপোর্টের মিল নেই।’

৩৮ জন কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব থেকে পূর্ণ মেয়াদে পদায়নের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘দুদক কি আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করছে?’

এছাড়া ১৮২ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নিয়ম মেনেই হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে যে দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলো ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ঘটলেও সেগুলোকে অন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার দাবি, দুটি বিষয়ই সচিব পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।’

এ সময় তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার মতে, অভিযোগ যাচাই এবং এ বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে দুদককে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

গণমাধ্যমের উদ্দেশে আসিফ মাহমুদ বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার বা মুছে ফেলা না হলে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, ‘নিউজ ডিলিট না করলে মানহানির মামলা করব। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুদক বক্তব্য প্রত্যাখ্যান না করলে আইনি প্রক্রিয়ায় মানহানির মামলা করব।’

দুদকের সংস্কার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। এ সময় বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, এ কারণেই দলটি দুদকের সংস্কার প্রক্রিয়া সমর্থন করেনি।

সরকারের প্রতিও বিরোধী মত দমনের রাজনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান আসিফ মাহমুদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *