ইরানের বিরুদ্ধে লাগাতার হামলার পর ১৫টি সামরিক ঘাঁটির বন্ধের কথা ভাবছে ওয়াশিংটন

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই দেশটির প্রতিশোধমূলক হামলার জেরে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি কমানোর পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে অঞ্চলটির অন্তত ১৫টি সামরিক ঘাঁটির কার্যক্রম বন্ধের কথা ভাবছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএস নাও-এর নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্যারি আর. ম্যাকক্যাফরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, “আমার মতে, মার্কিন সেনাবাহিনী পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের ১৫টি সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশাধিকার স্থায়ীভাবে হারিয়েছে।”

এমএস নাও-এর এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল আরও লিখেছেন, বর্তমানে পারস্য উপসাগরের আরব দেশগুলোতে প্রবেশের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে। ফলে পশ্চিম সৌদি আরব, ইসরাইল ও দক্ষিণ ইউরোপে নতুন করে প্রবেশাধিকার পেতে যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসতে হবে।

কয়েক দিন আগেও ওয়াশিংটন পোস্ট সংশ্লিষ্ট সূত্র ও কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছিল, যুদ্ধের পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর কথা ভাবছে পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোর কার্যক্রম যুদ্ধের আগের অবস্থার মতো চালিয়ে যেতে পারছে না।

পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধের সময় সামরিক অবকাঠামোর ওপর আঘাতের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে।

এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্র এখন ঘাঁটিগুলোর কার্যক্রম ও কৌশলগত অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের দিকে যাচ্ছে। অন্তত ১৫টি ঘাঁটির কার্যক্রম বন্ধের সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ধরনেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *