২০২২ সালের পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলের। তবে ভারত সরকারের আশ্বাসের পরও দিল্লিতে বসে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিতর্কিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে দেখা দেওয়া কূটনৈতিক উত্তেজনার আঁচ লেগেছে ক্রিকেট অঙ্গনেও। ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে পূর্বনির্ধারিত সাদা বলের সিরিজটি ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ক্রীড়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারতে দল বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
বিসিবি কর্মকর্তাদের সংশয় ও বাস্তবতা
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিরিজটি মাঠে গড়ানো অত্যন্ত কঠিন।
তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সব ঘটনাপ্রবাহের পর সিরিজটি হওয়া নিয়ে আমি বেশ সন্দিহান। ওপাশ (বিসিসিআই/ভারত) থেকে এখন ইতিবাচক কোনো সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকলেও বিষয়টি এখন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।”
| বাংলাদেশ-ভারত সেপ্টেম্বরের সিরিজ সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপ |
| সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় সফর: ২০২২ সাল। |
| প্রস্তাবিত সিরিজ: ৩টি ওডিআই ও ৩টি টি-টোয়েন্টি (আগস্টের শেষ/সেপ্টেম্বর ২০২৬)। |
| বর্তমান সংকট: ভারতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কূটনৈতিক উত্তেজনা। |
| বিসিবির অবস্থান: নীতিগতভাবে ইতিবাচক থাকলেও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বোর্ড। |
বরফ গলার পর নতুন সংকট
উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে দুই দেশের রাজনৈতিক শীতলতার পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে বিসিবি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) অভ্যন্তরীণ সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করেছিল। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবি পর্ষদ ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
তবে ৫ আগস্ট দিল্লিতে আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনার প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান এবং এর জবাবে বাংলাদেশের কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন মোড় নেয়। বিসিবি এখনো অনুষ্ঠানিকভাবে সিরিজ বাতিলের ঘোষণা না দিলেও, সময় ঘনিয়ে আসায় এবং ভারতীয় বোর্ডের নীরবতায় সফরটি স্থগিত হওয়ার শঙ্কা প্রবল হচ্ছে।
