শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিনেত্রী পরী মণির করা মামলায় তার জেরা আবারও পিছিয়েছে। রোববার সকালে আদালতে যাওয়ার পথে যানজটে আটকে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারায় তার জেরা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আজ রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এর বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের অংশ হিসেবে পরী মণিকে জেরার দিন ধার্য ছিল।
তবে বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা দিয়েও নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছাতে পারেননি পরী মণি। এরই মধ্যে আদালতের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় বিচারক এজলাস থেকে নেমে যান। ফলে এদিনও তার জেরা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরী মণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী)।
আইনজীবী রিফাত বলেন, মামলার তিন আসামির মধ্যে দুজন আদালতে হাজির হয়ে পরে চলে যান। অপর একজন আসামি সময়ের আবেদন করেন।
এর আগেও কয়েক দফা পরী মণির জেরা পিছিয়েছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পর অসুস্থ থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি তিনি। সেদিনও মামলাটিতে তাকে জেরার জন্য দিন নির্ধারিত ছিল।
এর আগে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর মামলাটির জেরার দিন ধার্য ছিল। তবে পরী মণির দুই শিশুকে টিকা দেওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। ফলে সেদিনও তার জেরা হয়নি।
এ ছাড়া গত বছরের ২৬ মে মামলাটিতে আদালতে হাজির হয়েছিলেন পরী মণি। কিন্তু আদালতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেদিনও তাকে জেরা করা সম্ভব হয়নি।
মামলার আসামিরা হলেন নাসির উদ্দিন, তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহীদুল আলম। তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৪ জুন নাসির উদ্দিন ও তুহিন সিদ্দিকী অমির নাম উল্লেখ করে এবং আরও চারজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ঢাকার সাভার থানায় মামলা করেন পরী মণি।
মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর নাসির উদ্দিনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও সাভার থানার পরিদর্শক কামাল হোসেন।
পরে ২০২২ সালের ১৮ মে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হয়। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার পর্যায়ে রয়েছে।
