বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ধোঁয়ার প্রভাবে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এবং তার স্ত্রী নাইমা ইমরানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৪টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর বারিধারার ইউএন রোডের ২২ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে আগুন লাগে। খবর পেয়ে বারিধারা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভোর ৫টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে ৫টা ২০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা সম্ভব হয়। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে আগুনটি ভবনের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েনি এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর বাসভবনের ভেতরে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান ধোঁয়াজনিত শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। পরে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তাদের রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ধোঁয়ার প্রভাবে তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে সাময়িক জটিলতা দেখা দিলেও বর্তমানে দুজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আপাতত তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতির দিকেই চিকিৎসকরা নজর রাখছেন।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি জানার পর বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আগুনের তীব্রতা সীমিত থাকায় ভবনের কাঠামোগত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে অগ্নিকাণ্ডের ফলে বাসভবনের কিছু অংশে ধোঁয়া ও তাপের কারণে ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটজনিত অগ্নিকাণ্ড রোধে ভবনের বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে কূটনৈতিক স্থাপনা, সরকারি ভবন ও আবাসিক এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যকর রাখা এবং বৈদ্যুতিক লাইনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে হাইকমিশনার ও তার স্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক মহলের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *