পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাদকের ওপর বিজিবির ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। গত বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) গভীর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জারুলিয়াছড়ি এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৮৯ হাজার ৯১৬ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (১১ বিজিবি)।
ধাওয়া খেয়ে ব্যাগ ফেলে পালাল পাচারকারীরা
বিজিবি সূত্র জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধীনস্থ আশারতলী বিওপির (বিওপি) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৪৬ থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরের জারুলিয়াছড়ি এলাকায় এই কৌশলগত অভিযান পরিচালিত হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল সেখানে সতর্ক অবস্থান নেয় এবং টহল জোরদার করে। গভীর রাতে কয়েকজন সন্দেহভাজন মাদক চোরাকারবারিকে ব্যাগে করে কিছু বহন করে নিয়ে আসতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পাওয়া মাত্রই পাচারকারীরা দ্রুত আত্মগোপন ও পালানোর চেষ্টা করে। জোয়ানরা ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা হাতের একটি ব্যাগ গহীন পাহাড়ি জঙ্গলে ফেলে দিয়ে চটজলদি পালিয়ে যায়।
উদ্ধারকৃত ইয়াবার বিবরণ ও সিজার মূল্য
পরবর্তীতে বিজিবির টহল দল তল্লাশি চালিয়ে পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া ব্যাগ থেকে ৯টি বিশেষ কার্টনে রাখা মোট ৮৯ হাজার ৯১৬ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে হলুদ রঙের ৮৯ হাজার ১৬ পিস এবং সবুজ রঙের বিশেষ ক্যাটাগরির ৯০০ পিস ইয়াবা ছিল।
বিজিবি কর্তৃক হিসাবকৃত উদ্ধারকৃত এসব ইয়াবার আনুমানিক দাপ্তরিক সিজার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা। অন্ধকার পাহাড়ি জঙ্গল ও দুর্গম পরিবেশের সুযোগ নিয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি।
‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বহাল থাকবে’
সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এই সফলতা প্রসঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির (পিএসসি, ইঞ্জিনিয়ার্স) জানান, “জাতীয় সীমান্ত সুরক্ষা, যেকোনো চোরাচালান প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো ও সীমান্ত পথে মাদক পাচার পুরোপুরি বন্ধ করতে বিজিবি সর্বদা বদ্ধপরিকর। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সীমান্তবর্তী এসব অঞ্চল দিয়ে মাদকের চালান প্রবেশ রোধে নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও নৈশ টহল বহুলাংশে বাড়ানো হয়েছে। দেশের তরুণ সমাজ ও যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এ ধরনের মাদক ও চোরাচালানবিরোধী সাড়াশী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।”
