অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ভুয়া প্রলোভন এবং চটকদার ফাঁদ ব্যবহার করে সক্রিয় আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘ ভবনে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস’-এর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মানব পাচারের শিকার সারভাইভারদের (উদ্ধারপ্রাপ্ত ভুক্তভোগীদের) সত্য ঘটনা ও তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ ‘লিসেন’ (Listen)-এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
মানব পাচার দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রযুক্তিগত উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানব পাচার কেবল ব্যক্তির স্বাধীনতা ও মৌলিক মর্যাদাকে ধ্বংস করে না, এটি পুরো সমাজের মূল ভিত্তিকেও চরমভাবে আঘাত করে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে হওয়া এই আধুনিক অপরাধ রুখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং জনসচেতনতা বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে।
চলতি বছরের বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম’ (Trapped Behind the Scam)-এর গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী সতর্ক করেন, আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলো এখন প্রযুক্তিকে ঢাল বানিয়ে মানুষকে প্রতারণামূলক কাজ, সাইবার স্ক্যাম এবং দাসত্বমূলক শ্রমে বাধ্য করছে।
এই নতুন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার কথা জানিয়ে তিনি ঘোষণা দেন:
“ডিজিটাল মাধ্যমে মানব পাচার রুখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই ‘কাউন্টারিং সাইবার এনাবেল্ড হিউম্যান ট্রাফিকিং থ্রু টেকনোলজি’ (Countering Cyber-Enabled Human Trafficking Through Technology) শীর্ষক বিশেষ ও সমন্বিত প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবে। এর মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে চালানো পাচার কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা, জড়িতদের গ্রেপ্তার করা এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত সুরক্ষা দেওয়া।”
সারভাইভারদের আলোকচিত্র গ্রন্থ ‘লিসেন’ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘লিসেন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন শেষে বলেন, শুধু গাণিতিক পরিসংখ্যান দিয়ে মানব পাচারের মানবিক ক্ষতির পরিমাপ করা সম্ভব নয়। ‘লিসেন’ গ্রন্থে সারভাইভারদের যে বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে, তা সমাজজুড়ে সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। উল্লেখ্য, এটি পাচারের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের অভিজ্ঞতা, অনিয়মিত অভিবাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির ওপর তৈরি দেশের প্রথম তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ।
অনুষ্ঠানে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এই আয়োজনের জন্য আইওএম এবং আর্থিক সহায়তাকারী সংস্থা ‘কইকা’ (KOICA)-কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন:
- উগোচি ড্যানিয়েলস (উপ-মহাপরিচালক – অপারেশনস, আইওএম)
- জিহুন কিম (কান্ট্রি ডিরেক্টর, কইকা বাংলাদেশ)
- ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেসনিয়াক (জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী)
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ডে।
