বর্তমানে বিরোধীদলীয় রাজনীতিকদের কঠোর ও মারমুখী বক্তব্য নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “বর্তমানে বিরোধীদলীয় নেতারা যে ভাষায় প্রকাশ্যে কথা বলছেন—‘পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে না’—ঠিক এই একই অহংকারী ভাষা অতীতে শেখ হাসিনাও বলতেন। ১৯৯১ সালেও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বলেছিল, নির্বাচিত সরকারকে এক মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। আজ বিরোধী নেতাদের বক্তব্যে সেই পুরোনো অগণতান্ত্রিক ভাষারই পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে পাচ্ছি।”
আজ সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ’
জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক জলঘোলা করার অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বিএনপি জুলাই সনদের সংস্কার বা বাস্তবায়ন চায় না—এমন এক মিথ্যা ও অমূলক ধারণা তৈরি করে দেশের সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিএনপি যেসব প্রস্তাবনায় একমত নয়, তা লিখিতভাবে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। তবে ঐকমত্যের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক জুলাই সনদের প্রতিটি অনুচ্ছেদ ও অংশ বাস্তবায়নে বিএনপি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ঐকমত্য কমিশনের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, তারা কৌশলে গণভোটের জন্য একটি প্রশ্ন চাপিয়ে দিয়েছে, যা মূলত জাতির সঙ্গে প্রচ্ছন্ন প্রতারণার শামিল।
রাজপথের অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকারের অবস্থান
বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “রাজপথে আন্দোলন করা বিরোধী দলের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সেই রাজনৈতিক কর্মসূচি যাতে কোনোভাবেই সহিংস সংঘাতের দিকে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনা সংস্কার কমিটি গঠন করা হবে নাকি সংশোধন পরিষদ তৈরি করা হবে—এসব জটিল প্রযুক্তিগত বিষয় রাজপথে নয়, বরং জাতীয় সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিরোধী দলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই।”
দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন অপ্রীতিকর হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অপরাধমূলক ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ও যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
একই সঙ্গে গণমাধ্যম প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের ওপর বিন্দুমাত্র কোনো হস্তক্ষেপ বা সেন্সরশিপ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বিএনপির ভেতর কোনো গ্রুপিং নেই। বরং আমরা দেখছি সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যেই বিভাজন তৈরি করে একে অন্যকে পদচ্যুত বা সরিয়ে দেওয়ার এক প্রবণতা তৈরি হয়েছে।” তিনি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দক্ষ ও যোগ্য পেশাদারদের নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
‘সংসদই হবে অর্জিত গণতন্ত্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু’: তথ্যমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর অক্ষরে বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে যা কিছু করতে হবে, তা অবশ্যই সংবিধান ও সুনির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জাতীয় সংসদের ভেতরে আলোচনা করেই করতে হবে।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অগণিত শহিদের অসামান্য ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি ও কেন্দ্রবিন্দু হবে জাতীয় সংসদ। অথচ সংসদকে উপেক্ষা করে বাইরে বিভিন্ন উসকানিমূলক রাজনৈতিক চর্চা ও বক্তব্য প্রদান করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত।”
শহিদদের আত্মত্যাগকে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ হাসিলের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় ঐক্য রক্ষা করে সরকার সংসদ ও সামগ্রিক রাজনীতিতে সব পক্ষের গঠনমূলক সহযোগিতা চায় এবং জুলাই সনদের অঙ্গীকার পূরণে দেশবাসীর পূর্ণ সমর্থন প্রত্যাশা করে।”
