আধুনিক বিশ্বমানের আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং সুদৃঢ় ইসলামিক নৈতিক শিক্ষার সুষম সমন্বয় ছাড়া ভবিষ্যতে একটি সুশিক্ষিত, দক্ষ ও আদর্শ জাতি গঠন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, “আজ যদি আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিক সুনির্দিষ্ট ধারায় পরিচালিত করতে পারি, তবে আগামী ৩০ বছর পর আমরা একটি সুস্থ, দায়িত্বশীল ও নৈতিক মানসম্পন্ন বিশ্বমানের জাতি পাব।”
আজ সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) সকালে রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।
শিক্ষার বর্তমান বাস্তবতা ও সমন্বয়ের গুরুত্ব
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “বর্তমানে প্রচলিত সাধারণ আধুনিক শিক্ষায় অনেক ক্ষেত্রে ইসলামিক মূলবোধ ও নীতিবিদ্যার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। অন্যদিকে, কেবল ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক শিক্ষায় আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও বিশ্বমানের দক্ষতার অভাব দেখা যায়। এর ফলে ইসলামিক শিক্ষাধারায় বড় হয়ে ওঠা অনেকেরই মূলধারার কর্মক্ষেত্র ও সমাজে ভূমিকা রাখার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। এই ব্যবধান দূর করতেই আধুনিক ও ইসলামিক শিক্ষার এই কার্যকর মেলবন্ধন অত্যন্ত জরুরি।”
সেনাপ্রধান জানান, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নতুন এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্যই হলো আন্তর্জাতিক মানের ক্যামব্রিজ কারিকুলাম (Cambridge Curriculum) অনুসরণ করে ইংরেজি মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুদৃঢ় ইসলামিক নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তোলা, যা ভবিষ্যতে একটি সুশৃঙ্খল দেশপ্রেমিক জাতি গঠনে মূল ভূমিকা রাখবে।
আরও ৭টি আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শিক্ষা অনুরাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানসম্মত ও বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সফলভাবে পরিচালনার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সময়ের যুগোপযোগী চাহিদা ও অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করেই এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সেনাপ্রধান ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (VTC) মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেনানিবাস—বরিশাল, সাভার, বগুড়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোরে আরও ৭টি আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
