‘টাকার বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্কের শর্ত দেন সেই প্রভাবশালী’, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন আকাঙ্ক্ষা

রিয়েলিটি শো ‘লক আপ ২’ (Lock Upp 2) থেকে সম্প্রতি বিদায় নিলেও নানা মন্তব্যের কারণে বিনোদন অঙ্গনে এখন জোর আলোচনায় রয়েছেন অভিনেত্রী ও মডেল আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী। শো ছাড়ার পরপরই নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের এক চরম তিক্ত ও আতঙ্কজনক কাস্টিং কাউচের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন এই তারকা। তাঁর দাবি, শোবিজ অঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আসা দিনগুলোতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আকাঙ্ক্ষা জানান, বিনোদন জগতে পা রাখার শুরুর দিকে একটি মর্যাদাপূর্ণ বিউটি পেজেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সে সময় পোশাক-আশাক, গ্রুমিং প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ১ থেকে ২ লাখ রুপির জরুরি প্রয়োজন দেখা দেয়। সাধারণ পরিবার হওয়ায় তাঁর পরিবারের পক্ষে এই মোটা অঙ্কের অর্থ বহন করা একেবারেই সম্ভব ছিল না। নিরুপায় হয়ে পেজেন্ট অঙ্গনের পরিচিত ও প্রভাবশালী এক ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়ান তিনি।

‘কাজের কথা বলে ডেকে এনে কুপ্রস্তাব’

ঘটনার স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী বলেন, “আমি সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিকে বিনীতভাবে বলেছিলাম, আমাকে টাকাটা দিলে বিনিময়ে আমি তাঁর সংস্থায় টানা কয়েক মাস কর্মী হিসেবে বিনামূল্যে কাজ করে অর্থ শোধ করে দেব। প্রস্তাবটি শুনে তিনি আমাকে তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবনে দেখা করতে বলেন। এর আগেও প্রাতিষ্ঠানিক কাজের প্রয়োজনে সেখানে গিয়েছিলাম, তাই আমার মনে বিন্দুমাত্র কোনো সন্দেহ জাগেনি।”

কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরই বিপত্তি ঘটে জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “আমি পৌঁছানোর পর ওই বয়স্ক ব্যক্তি প্রথমে আমাকে স্বাভাবিকভাবে জড়িয়ে ধরতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু ক্ষণিকের মধ্যে সাধারণ আলিঙ্গনের বদলে তিনি আমাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে জোর করে জড়িয়ে ধরেন। তিনি বয়সে অনেক বড় ছিলেন, আমি তাত্ক্ষণিকভাবে শক্তি প্রয়োগ করে তাঁর হাত সরিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিই। এরপরই তিনি আমার মুখের ওপর বলেন—’তুমি যদি আরও আগে আমার শরণাপন্ন হতে, তবে অনেক আগেই ইন্ডাস্ট্রিতে বিশাল বড় তারকা হতে পারতে’।”

এরপরই সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব তাঁর কাছে সরাসরি দৈহিক সম্পর্কের অনৈতিক শর্ত তুলে ধরেন। আকাঙ্ক্ষার ভাষায়, “তিনি আমাকে সাফ জানান, যে অর্থের প্রয়োজন তা তিনি একবারে দিয়ে দেবেন; কিন্তু বিনিময়ে তাঁর সাথে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিছু দিন যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে হবে। এমনকি মাসে ঠিক কতবার শারীরিক সম্পর্ক রাখতে হবে, সেটির সুনির্দিষ্ট শর্তও জুড়ে দেন তিনি।”

‘সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ নেই, যোগ্যতাতেই সফল’

কুপ্রস্তাবে রাজি না হয়ে তৎক্ষণাৎ স্থান ত্যাগ করার কথা জানিয়ে আকাঙ্ক্ষা বলেন, “যদি তাঁর এই ঘৃণ্য ও অসাধু উদ্দেশ্যের কথা আগে থেকে টের পেতাম, তবে আমি ভুলেও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যেতাম না। আমি যখন সরাসরি তাঁর কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি, তখন তিনি আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন—আগামী দুই বছরের মধ্যে আমার এই অসম্মতির জন্য আমাকে নাকি ভীষণ অনুতপ্ত হতে হবে!”

তবে সে সময় ভয় পেলেও নিজের নৈতিক সিদ্ধান্তে আজ অব্দি অবিচল আছেন বলে গর্ব প্রকাশ করেন আকাঙ্ক্ষা। তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, “সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার মনে আজ বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা আফসোস নেই। ওই ঘটনার ঠিক ছয় মাসের মাথায় আমি একটি জাতীয় বড় শোয়ের অংশ হই এবং এক বছরের মধ্যে দেশের অন্যতম সেরা মঞ্চে দাঁড়াতে সক্ষম হই। ইন্ডাস্ট্রিতে আজকের যা কিছু অর্জন, তার সম্পূর্ণটাই আমার নিজের পরিশ্রম ও যোগ্যতার ফল।”

উল্লেখ্য, পেশাগত নিরাপত্তা ও উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা ভেবে সাক্ষাৎকারে অভিযুক্ত সেই প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করেননি আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী। অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কারও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *