পরিবেশ রক্ষায় ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আকুল আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “দেশকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে কেবল সরকার কিংবা একা কোনো সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন দেশের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত ও স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ। আমরা সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামান্য সচেতন হই, তবেই আগামী ভবিষ্যৎ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সবুজ ও সুস্থ বাংলাদেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।”
আজ সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় দেশের সর্বস্তরের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া সরাসরি বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান।
‘৩০-৪০ বছর আগের বাংলাদেশ আর বর্তমান পরিবেশের ব্যবধান’
ভিডিও বার্তার শুরুতেই সামাজিক ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আজ আমি আপনাদের সঙ্গে একটি বিশেষ বিষয় নিয়ে সংক্ষেপে দুটি কথা বলতে চাই—যে বিষয়টি আমাদের সমাজের প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষকে প্রতিদিন স্পর্শ করে, তা হচ্ছে আমাদের চারপাশের পরিবেশ।”
আগের ও বর্তমান পরিবেশ ব্যবস্থার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ থেকে ৩০ বা ৪০ বছর আগের বাংলাদেশের যে প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল, তার সঙ্গে আজকের বাস্তবতার অনেক বড় ও উদ্বেগজনক পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এখন আমাদের রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা এবং প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাট, হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে দেদারসে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, পলিথিন ও টিস্যুসহ নানা ধরনের পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়, যা আমাদের সামগ্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।”
নাগরিক সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “আপনার নিজের ঘরে—যেটিতে আপনি পরিবার নিয়ে বাস করেন—চারিদিকে যদি ময়লা-আবর্জনা ও ব্যবহৃত টিস্যু ছিটিয়ে থাকত, তবে কি আপনার ভালো লাগত? নিশ্চয়ই লাগত না। তাহলে আমরা কেন আমাদের দেশের সামষ্টিক পরিবেশটাকে পরম যত্নে সুন্দর রাখতে পারব না?”
জলাশয়, পার্ক ও পর্যটন কেন্দ্র রক্ষায় আহ্বান
দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের কষ্ট লাঘব এবং জলাশয় সুরক্ষার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রতিদিন পায়ে হেঁটে, রিকশায় বা গণপরিবহন বাসে যাতায়াত করেন। কিন্তু রাস্তায় যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে রাখার কারণে সাধারণ মানুষকে দুর্গন্ধ সয়ে যাতায়াত করতে হয়, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।”
দেশের খাল-বিল ও পুকুরের বর্তমান করুণ চিত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে অনেক ঐতিহাসিক পুকুরের পাড় ও ভেতরের পানিতে বর্জ্যের বিশাল স্তূপ দেখতে পেয়েছি। অথচ একসময় এসব পুকুরপাড় ছিল স্থানীয় মানুষের অবকাশ যাপন ও নিঃশ্বাস নেওয়ার অন্যতম মূল স্থান। বর্জ্য ফেলার কারণে আজ সেই সুন্দর পরিবেশ আর নেই।”
পাশাপাশি দেশের বিনোদন কেন্দ্র ও পার্কগুলোতে ঘুরতে গিয়ে চিপসের প্যাকেট, লজেন্সের মোড়ক কিংবা বাদামের খোসা সুনির্দিষ্ট ডাস্টবিনে না ফেলে যত্রতত্র ফেলার মানসিকতা পরিহার করার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে দেশবাসীকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই প্রিয় দেশটা আমাদের সবার। আমরা সবাই মিলে যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে একটু একটু করে পরিবর্তন ও চেষ্টা শুরু করি, তবে নিশ্চয়ই আমরা এক দিন বড় কিছু অর্জন করতে সক্ষম হব। আজকের এই দিনে দেশবাসীর কাছে আমি পরিচ্ছন্নতার এই পরম সহযোগিতাটুকুই চাইছি।”
