স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়ার কথা ভাবছে জামায়াত, জোটে মতভেদ ও বিকল্প সমঝোতার গুঞ্জন

চলতি ২০২৬ সালের শুরুতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্য গড়ে অংশ নিলেও, বছরের মাঝামাঝিতে এসে সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোটের প্রধান শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে কৌশলগত ভিন্নমত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে ভোটের তোড়জোড় শুরু করায় জোটভুক্ত দলগুলোর রাজনীতিতে এখন হিসাব-নিকাশের নতুন সমীকরণ দেখা যাচ্ছে।

জোট সূত্র জানিয়েছে, সামনের স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সমঝোতা না করে এককভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছে জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে জোটের একাধিক শরিক দল জাতীয় নির্বাচনের মতো সমন্বিত প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

বিকল্প নির্বাচনী সমঝোতার তাগিদ ও নতুন মিত্রের খোঁজে শরিকরা

১১-দলীয় ঐক্যের অভ্যন্তরীণ একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমন্বিত সিদ্ধান্ত বা আসন সমঝোতা না হলে বিকল্প নির্বাচনী বোঝাপড়ার পথে হাঁটতে পারে অন্য দুটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস।

এমনকি কৌশলগত শক্ত অবস্থান তৈরি করতে তরুণদের দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’কেও (এনসিপি) এই বিকল্প আলোচনায় যুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে দলগুলো। ১১-দলীয় ঐক্যের একাধিক শরিক দলের নেতাদের যুক্তি—যেসব এলাকায় একাধিক জোটসঙ্গীর নিজস্ব শক্তিশালী জনভিত্তি রয়েছে, সেখানে একক প্রার্থী না দিয়ে একাধিক প্রার্থী দাঁড়িয়ে গেলে ভোট বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং এর পূর্ণ সুযোগ নেবে বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা। এতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাঝেও চরম বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

জামায়াতের নিজস্ব অবস্থান

পক্ষান্তরে জামায়াতে ইসলামীর নীতি নির্ধারকদের ভাবনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দলটির ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন এক বিষয় নয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন মূলত তৃণমূল পর্যায়ে দলের নিজস্ব সাংগঠনিক সক্ষমতা, জনপ্রিয়তা এবং নতুন স্থানীয় নেতৃত্ব যাচাইয়ের মূলক্ষেত্র। তাই ওপর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো জোড়াতালি দেওয়া আসন সমঝোতা চাপিয়ে না দিয়ে উন্মুক্ত ও এককভাবে নির্বাচন করাই বাস্তবসম্মত কৌশল হতে পারে।

নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রথম বড় পরীক্ষা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেই নিজেদের মূল সাংগঠনিক শক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছে রাজপথের দলগুলো। সে কারণেই ইসি আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণার আগেই প্রার্থী বাছাই ও অভ্যন্তরীণ সমঝোতা নিয়ে দরকষাকষি শুরু হয়েছে।

সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র থেকে জানা গেছে, চলতি আগস্ট মাসের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের স্তরগুলোতে ভোটগ্রহণ শেষ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *