রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ জামতলা গলি এলাকায় নিজ ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে এক নারী চিকিৎসককে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বৃত্তরা ঘরের ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
গত গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) বিকেলে ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে এই মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
নিহত নারী চিকিৎসকের নাম সারা রোকসানা পিনু। তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ভূইয়া বাড়ি এলাকার শিক্ষক মজিবুল হক বাচ্চুর মেয়ে। পরিবারে তাঁর স্কুলপড়ুয়া দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।
গ্রিল কেটে অনুপ্রবেশ ও শ্বাসরোধে হত্যা
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, “বিকেল ৩টার পর দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে ফ্ল্যাটের বারান্দা বা জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ভুক্তভোগী সারা রোকসানাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘরের আলমারি ও আসবাবপত্র তছনছ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও অর্থ লুট করা হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সময় ডা. সারা রোকসানা বাসায় সম্পূর্ণ একা ছিলেন। তাঁর স্বামী প্রতিদিনের মতো কর্মস্থল অফিসে ছিলেন এবং ছোট মেয়েকে সকালে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
মর্মান্তিক উন্মোচন: মেয়ে স্কুল থেকে ফিরে দেখে মায়ের নিথর দেহ
দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিব ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে জানান, সাধারণত প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর ডা. সারা রোকসানা নিজে গিয়ে মেয়েকে স্কুল থেকে বাসায় নিয়ে আসতেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি সময়মতো স্কুলে না যাওয়ায় মেয়ে কিছুক্ষণ সেখানে অপেক্ষা করে একা একা বাসায় ফিরে আসে।
বাসায় ফিরে ঘরের গেস্ট রুমে মায়ের বীভৎস ও নিথর দেহ দেখতে পেয়ে শিশুটি আতঙ্কে পুনরায় দ্রুত স্কুলে ফিরে যায় এবং তার শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে ওই শিক্ষক তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির বাবাকে ফোনে খবর দেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দক্ষিণখান থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পায়। ওই সময় নিহতের স্বামী ও ছোট মেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
স্বর্ণালংকারের জন্য পরিকল্পিত খুন?
নিহত চিকিৎসকের ছেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, “আমি ঘটনার সময় বাসায় ছিলাম না। পরে এসে দেখি আমার আম্মুকে গেস্ট রুমে হত্যা করা হয়েছে। গ্রিল কেটে খুনি বাসায় ঢুকেছে এবং বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। আমার আম্মুর কাছে যত স্বর্ণ ও নগদ টাকা ছিল, সব খুনিরা নিয়ে গেছে।”
পরিবারের দাবি, মূলত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই দুর্বৃত্তরা ছক কষে বাসায় প্রবেশ করেছিল। তবে তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যাওয়ার কারণে বাসার কিছু মালামাল ও প্যাকেট এলোমেলো অবস্থায় মেঝতে পড়ে ছিল। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা এসআই হাবিব বলেন, “ঘটনাস্থলের গ্রিল কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং ভেতরের আসবাবপত্র তছনছ ছিল। ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে পুরো হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে, ঠিক কত টাকার মালামাল খোয়া গেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা সুষ্ঠু তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। জড়িতদের শনাক্তে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।”
