অস্ট্রেলিয়া-কানাডায় চাকরির নামে কোটি টাকার প্রতারণা, ডিবির জালে চক্রের দুই সদস্য

অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় উচ্চ বেতনের লোভনীয় চাকরি এবং দ্রুত স্থায়ীভাবে বসবাসের (PR) সুযোগ করে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

অভিযানের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে ১টি ল্যাপটপ, ৭টি স্মাটফোন, ১৩টি বায়োমেট্রিক সিম কার্ড এবং ৯টি জাল বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মারিফুল ইসলাম (২১) এবং বাচ্চা বাউ ওরফে হাসিনুর (২৮)। ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অস্ট্রেলীয় সরকারি ওয়েবসাইটের ক্লোন ও অভিনব প্রতারণাফাঁদ

প্রতারণার এই ডিজিটাল কৌশল সম্পর্কে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ADC) মো. ওয়ালিউল ইসলাম জানান:

  • চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (Facebook, Instagram)-এ অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় আকর্ষনীয় চাকরির চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করত।
  • সরলপ্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ করে মেডিক্যাল ফি, ভিসা প্রসেসিং, ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন ও এয়ার টিকেটের নামে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ধাপে ধাপে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত।
  • ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করতে তারা অস্ট্রেলিয়া সরকারের সরকারি ওয়েবসাইটের হুবহু আদলে তৈরি ভুয়া ওয়েবসাইট, নকল LMIA (লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট) এবং ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট লেটার প্রদর্শন করত। এসব ক্লোন ওয়েবসাইটে ভুক্তভোগীরা নিজেদের পাসপোর্ট নম্বর ইনপুট দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা অনুমোদনের মিথ্যা বার্তা ভেসে উঠত!

৭২ জনের বেশি ভুক্তভোগী ও কোটি টাকার বাণিজ্য

মামলার বাদী অস্ট্রেলিয়ায় ভালো চাকরির আশায় এই প্রতারক চক্রকে বিশ্বাস করে বিভিন্ন ধাপে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছিলেন। পরবর্তীতে আরও মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হলে এবং বিদেশে পাঠাতে টালবাহানা শুরু করলে তিনি জালিয়াতি বুঝতে পেরে ডিবিতে অভিযোগ দায়ের করেন।

ডিবির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উক্ত চক্রটি একই কায়দায় সারা দেশের অন্তত ৭২ জনেরও বেশি নিরীহ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইস ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের স্টেটমেন্টে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। গ্রেপ্তার আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিদেশে চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি ডিবির বিশেষ সতর্কবার্তা

  1. সংস্থা যাচাই: সামাজিক যোগাযোাগ মাধ্যমে প্রচারিত বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হয়ে রিক্রুটিং এজেন্সির সরকারি অনুমোদন (BMET রেজিস্ট্রেশন) যাচাই করুন।
  2. কাগজপত্র ভেরিফিকেশন: প্রাপ্ত ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট কেবল সংশ্লিষ্ট দেশের অফিসিয়াল দূতাবাস বা মূল সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে সরাসরি যাচাই করুন।
  3. অর্থ লেনদেনে সাবধানতা: অপরিচিত কোনো ব্যক্তি বা এজেন্সির ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর বা ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ লেনদেন থেকে বিরত থাকুন। কোনো অনিয়ম দেখলে দ্রুত নিকটস্থ থানা বা সাইবার পুলিশকে অবহিত করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *