খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী আন্তঃনগর ‘সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস’ (১৬১ আপ) ট্রেনটি ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে থামিয়ে চালক হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে স্টেশনে বিক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেন বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশন মাস্টার ও কর্মচারীরা গা-ঢাকা দিতে বাধ্য হন।
পরবর্তীতে ঘটনার ১ ঘণ্টা ৭ মিনিট পর নিখোঁজ চালক পুনরায় স্টেশনে ফিরে এলে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
ইঞ্জিন বন্ধ করে চালকের গা-ঢাকা
মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের মাস্টার শাহজাহান আলী ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী ‘সাগরদাঁড়ি ১৬১ আপ’ ট্রেনটি নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে মোবারকগঞ্জ স্টেশনে এসে পৌঁছায়।
নিয়মানুযায়ী মাত্র ২ মিনিট বিরতির পর ট্রেনটিকে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য সিগন্যাল (ক্লিয়ারেন্স) দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পার হলেও ট্রেনটি ছাড়ছিল না। পরবর্তীতে কৌতুহলবশত চালকের কেবিনে গিয়ে দেখা যায়, ইঞ্জিনের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ এবং ট্রেনের ইঞ্জিন সম্পূর্ণ বন্ধ করা অবস্থায় রয়েছে। ভিতরে চালক (লোকোমোটিভ মাস্টার) অনুপস্থিত।
চালককে আশপাশের এলাকায় না পেয়ে স্টেশনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং তাকে হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
বিসিএস পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও যাত্রীদের বিক্ষোভ
ট্রেন হঠাৎ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় বিশেষ করে চরম বিপাকে পড়েন পরের দিন অনুষ্ঠেয় বিসিএস (BCS) পরীক্ষার পরীক্ষার্থীরা। বিসিএস পরীক্ষার্থী বাপ্পী নামের এক ভুক্তভোগী যাত্রী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“আমার আগামীকাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিসিএস পরীক্ষা। সময়মতো রাজশাহীর কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারলে সারা জীবনের এই স্বপ্ন ও চেষ্টা জলে ভেসে যাবে! এভাবে দায়িত্বহীনভাবে চালক ইঞ্জিন বন্ধ করে গায়েব হয়ে যাবে—তা ভাবাই যায় না।”
ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকায় স্টেশনে ট্রেনের শত শত যাত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ব্যাপক হট্টগোল ও বিক্ষোভ শুরু করেন। অপ্রীতিকর ঘটনা ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সে সময় স্টেশনের মাস্টারসহ কর্মচারীরা সাময়িকভাবে স্থান ত্যাগ করেন।
চালকের প্রত্যাবর্তন ও বিভাগীয় তদন্তের আশ্বাস
অবশেষে ট্রেনের চালক দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ৭ মিনিট পর ফিরে এলে বন্ধ থাকা ইঞ্জিন চালু করা হয় এবং ট্রেনটি পুনরায় নিজ গন্তব্যে যাত্রা শুরু করে। চালক এতক্ষণ কোথায় এবং কেন ইঞ্জিন বন্ধ করে অনুপস্থিত ছিলেন—সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানা যায়নি।
মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশন মাস্টার শাহজাহান আলী জানিয়েছেন, যাত্রী সাধারণের চরম ভোগান্তি ও ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দায়ী চালকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
