১ কোটি টাকা যৌতুক দাবি এবং দ্বিতীয় স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনাকে মারধরের মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকা বিতর্কিত ফেসবুক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুন এবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে নতুন আইনি জটিলতায় পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় দায়ের করা পৃথক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর (শ্যোন অ্যারেস্ট) আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
আগামী ২৯ জুলাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালতে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যার হুমকি ও উদ্ধার
মামলার আরজিতে বাদী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা উল্লেখ করেন, গত ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১২টার দিকে রাজধানীর ভাটারা এলাকার বাসায় থাকাকালীন প্রিন্স মামুন তাঁর ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে আসেন। লাইভে তিনি বেডরুমের সিলিং ফ্যানের সাথে মোহনার ব্যবহৃত শাড়ি প্যাঁচিয়ে আত্মহত্যা করবেন বলে শাসাতে থাকেন এবং এই মৃত্যুর জন্য মোহনা ও তাঁর পরিবারকে দায়ী করবেন বলে অপপ্রচার করতে থাকেন।
লাইভটি দেখার সাথে সাথে মোহনা, তাঁর মা, স্বজন ও মামুনের বাবা-মা দ্রুত রুমে ঢুকে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় ভাটারা থানা পুলিশের সহায়তায় তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই নজিরবিহীন ঘটনার প্রেক্ষিতে মোহনা বাদী হয়ে ভাটারা থানায় দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় একটি পৃথক মামলা দায়ের করেন।
দুই দিনে জোড়া মামলা ও দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা
এর আগে ১ কোটি টাকা যৌতুক দাবি এবং যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর অনবরত শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগে গত ২৪ জুলাই সকালেই ভাটারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামুনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়ের করেন মোহনা। সেই মামলায় পুলিশ তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে থাকা অবস্থাতেই গভীর রাতে ঘটে যাওয়া দ্বিতীয় ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার চেষ্টার মামলাটি যুক্ত হয়।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা চালালে তা স্পষ্ট আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিচারে অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামির সর্বোচ্চ ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার আইনি বিধান রয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ ও আইনজীবীর বক্তব্য
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াউর রহমান প্রিন্স মামুনকে এই নতুন মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর (শ্যোন অ্যারেস্ট) আবেদন জানিয়েছেন।
মামুনের আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রয় সংবাদ মাধ্যমকে জানান:
“ভিডিওতে আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়টি স্পষ্ট এবং দেশের বিদ্যমান আইনে এর বিরুদ্ধে মামলা হতেই পারে। তবে শুনানির নির্ধারিত দিনে আমরা আদালতে যৌক্তিক আবেদন জানাব, যেন প্রিন্স মামুনকে এই নতুন মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট না দেখানো হয়।”
অন্যদিকে, জোড়া মামলার বাদী আতিকিয়া ফাইজা মোহনা মামলা ও তদন্তের স্বার্থে নতুন করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
