জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল

ঐতিহাসিক জুলাই গণ-আন্দোলনের মূল চেতনা ও রূপরেখা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে মাঠপর্যায়ে চলমান সব ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের দ্রুত অবসান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই জাতীয় সনদ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল মাঠপর্যায়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক সংকটেরই শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা হবে।

আজ রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) সকালে রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (NEC) কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে শহীদ ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যরাসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন রাষ্ট্র গঠনের অভূতপূর্ব সুযোগ

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জুলাই বিপ্লবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলন এ দেশের শোষিত মানুষের সামনে একটি সম্পূর্ণ নতুন ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বহু প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই সুযোগ আমাদের যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। ছাত্র-জনতার তাজা রক্তে অর্জিত এই নতুন জাতীয় আকাঙ্ক্ষাকে কোনো অবস্থাতেই নসাৎ হতে দেওয়া যাবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্য নিশ্চিত করাই এই সরকারের প্রধান এবং অন্যতম লক্ষ্য।”

তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বর্তমান সরকারের ওপর দেশের আপামর মানুষের গভীর আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। আমরা সবাই মিলে একটি ন্যায় এবং ইনসাফভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্র গঠন করতে পারবো। দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ের ফসল এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি দেশের মানুষের কাছে যেসব গণতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার এখন সেগুলোই পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এই রাষ্ট্রীয় সংস্কার শুধু কোনো নির্দিষ্ট একটি দলের জন্য নয়, বরং গোটা জাতির সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য করা হচ্ছে।”

জঞ্জাল দূর করতে সময়ের প্রয়োজন: উসকানিতে কান না দেওয়ার আহ্বান

রাষ্ট্র সংস্কারের পথটি অত্যন্ত মসৃণ বা সহজ নয় উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের জঞ্জাল ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম দূর করে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কিছুটা যৌক্তিক সময়ের প্রয়োজন। তাই কোনো ধরনের উসকানি, অপপ্রচার বা গুজবে কান না দিয়ে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাই।”

অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া সাংবাদিকদের মহান অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “সংবাদমাধ্যম হলো গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। গণ-আন্দোলনের চরম সংকটের সময় মাঠপর্যায়ের নির্ভীক সাংবাদিকেরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে স্বৈরাচারের লাইভ বুলেট উপেক্ষা করে সত্যের চিত্র তুলে ধরেছেন। তাদের এই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহীদ সাংবাদিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের পুনর্বাসন করা বর্তমান সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় এই সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

জাতীয় এডিটরস কাউন্সিলের এই তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনে শহীদ সাংবাদিকদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয় এবং পরে শহীদ পরিবারের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *