বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে আইনি নজরদারি ও ক্রোকপ্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে অবস্থিত সাবেক এই মন্ত্রীর প্রায় ১৮ কোটি টাকা মূল্যের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান মালামালের আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।
আজ রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) সকাল থেকে দুদকের উপ-পরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ টিম গুলশানের ওই ভবনটিতে বিশেষ এই অভিযান ও তালিকা প্রণয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজীর আহমেদ আজ দুপুরে গণমাধ্যমকে এই অভিযানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের আদেশে রিসিভার নিয়োগ ও ফ্ল্যাটে প্রবেশ
দুদকের জনসংযোগ শাখা থেকে জানা গেছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার অংশ হিসেবে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে এর আগেই গুলশানের ওই ফ্ল্যাট দুটি ক্রোক (Attachment) করা হয়েছিল এবং সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে রিসিভার (Receiver) নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের সেই পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনা ও আদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই আজ রিসিভারের আইনগত হেফাজতে থাকা ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করে ভেতরে থাকা রাজকীয় আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও অন্যান্য দামি মালামালের বর্ণনামূলক ইনভেন্টরি বা তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
দুদকের অনুসন্ধান দল জানিয়েছে, রাজধানীর গুলশানের একটি বহুতল ভবনের ৭ম ও ১১তম তলায় এই দুটি বিশাল ফ্ল্যাট অবস্থিত, যার আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৮ কোটি টাকা। ক্রোক আদেশের পর থেকে ফ্ল্যাট দুটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক বা তাঁর কোনো আইনগত প্রতিনিধি সশরীরে উপস্থিত না থাকায় আইনি জটিলতা এড়াতে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্নে মালামালের তালিকা প্রস্তুত করতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এই বিশেষ যৌথ টিম গঠন করা হয়।
আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি
দুদক সূত্র আরও জানায়, আজ দিনভর পরিচালিত এই অভিযানের মাধ্যমে ফ্ল্যাট দুটির অভ্যন্তরীণ প্রতিটি মালামাল ও স্থাবর-অস্থাবর সামগ্রীর ভিডিওগ্রাফি এবং লিখিত তালিকা নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই তালিকা প্রস্তুতের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে তা একটি আনুষ্ঠানিক আইনি প্রতিবেদন আকারে অতি দ্রুত বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হবে। পরবর্তীতে আদালতের দেওয়া নির্দেশনা ও আইনি রুলিং অনুযায়ী জাবেদের এই ক্রোককৃত সম্পত্তি ও মালামালের বিষয়ে পরবর্তী চূড়ান্ত আইনগত ও বাজেয়াপ্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিগত সরকারের প্রভাবশালী এই মন্ত্রীর দেশ-বিদেশের বিপুল অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদকের এই জোরালো অ্যাকশনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ সচেতন মহল।
