বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে: অর্থমন্ত্রী

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও প্লাবিত এলাকার মানুষদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক ও সব ধরনের প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নে বন্যাকবলিত ও দুর্গত সাধারণ মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এই কথা জানান। ত্রাণ বিতরণের আগে মন্ত্রী বাঁশখালীর বন্যায় বিপর্যস্ত ও বিধ্বস্ত বিভিন্ন দুর্গম এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা সশরীরে প্রত্যক্ষ করেন।

অর্থমন্ত্রী চলমান সংকটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, চট্টগ্রাম জেলাজুড়ে সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় প্রায় সাত লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে এক লাখেরও বেশি মানুষকে জরুরি প্রাথমিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দুর্গত জনপদে চাল, লজিস্টিকস, রান্না করা গরম খাবার ও শুকনো পুষ্টিকর খাবার বিতরণ কর্মসূচি পুরোদমে চলমান রয়েছে। জরুরি মানবিক সহায়তার পাশাপাশি বন্যায় গৃহহীন ও সর্বস্ব হারানো মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসন কার্যক্রমও সরকার দ্রুততার সাথে শুরু করেছে বলে তিনি জানান।

সড়ক যোগাযোগ সচল ও সংস্কারের জরুরি নির্দেশনা

পাহাড়ি ঢল ও বন্যার তোড়ে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, “বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রকৌশল বিভাগকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেক এলাকায় জরুরি সংস্কার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে না পড়ে।”

গতকাল দুপুরে সরল ও ভাদালিয়া এলাকায় ত্রাণ বিতরণের এই মানবিক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন— বাঁশখালী আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী এবং বাঁশখালী মহিলা দলের সভাপতি সারাবান তাহুরা ফেরদৌসী কলি। এ ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল বক্তা ও অংশীজন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *