আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণ ঘিরে যখন পুরো ফুটবল বিশ্ব বুঁদ, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে আলোচনার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ও বিশ্বকাপজয়ী তারকা রোনালদো নাজারিও। পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (সিআরসেভেন) এবং ব্রাজিলের বর্তমান পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন তিনি।
‘ফেনোমেনন’ খ্যাত এই ফুটবল জাদুকরের মতে, ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানোর বর্তমান যে শারীরিক অবস্থা, তা আর বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের তীব্র ও গতিশীল প্রতিযোগিতায় খেলার উপযোগী নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের তাবড় তাবড় ফুটবলারদেরও যে শারীরিক সক্ষমতা ফুরিয়ে আসে, সেটি মনে করিয়ে দিয়ে রোনালদো ফেনোমেনন বলেন, বয়সের অমোঘ প্রভাব মাঠের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট ধরা পড়ে।
তিনি বলেন, “একটা সময় আপনার শরীরই আপনাকে সিগন্যাল দেবে যে আর পেশাদার ফুটবলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমার মনে হয়, ক্রিস্তিয়ানো এবং নেইমার—দুজনই এখন তাদের ক্যারিয়ারের এমন এক শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে নিজের জরাজীর্ণ শরীরের বিরুদ্ধে লড়াই করে জেতাটা ভীষণ কঠিন।”
‘সৌদি লিগে চললেও বিশ্বকাপে অসম্ভব’
পর্তুগিজ সম্রাটকে নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলানের এই সাবেক স্ট্রাইকার আরও বলেন, “হয়তো সৌদি আরবের প্রো লিগে (আল-নাসরের হয়ে) খেলার মতো ফিটনেস এখনও ওর আছে। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলাটা সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনেক বেশি কঠিন। কারণ বিশ্বমঞ্চের প্রতিযোগিতার মান থাকে আকাশচুম্বী। ফুটবলের প্রতি আপনার যতই ভালোবাসা, আবেগ বা খেলার তীব্র ইচ্ছা থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা নেয় আপনার শরীরই। আমি নিজেও তো আর খেলি না, কারণ আমার মস্তিষ্ক যেভাবে খেলার পরিকল্পনা করে, শরীর এখন আর সেভাবে মাঠে সাড়া দিতে পারে না।”
শেষ ষোলোতে স্বপ্নভঙ্গ ও ১ হাজার গোলের মিশন
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল। আর সেই স্বপ্নভঙ্গের ম্যাচের মধ্য দিয়েই এবারের বিশ্বমঞ্চে শেষ হয় ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর অভিযান। তবে আসর থেকে দল ছিটকে গেলেও আল-নাসরের এই ফরোয়ার্ড এখনও জাতীয় দল থেকে অবসরের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। ফলে বিশ্ব ফুটবল মহলে জোর জল্পনা চলছে, ২০২৮ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপেও হয়তো পর্তুগালের জার্সিতে দেখা যেতে পারে এই গোলমেশিনকে।
এবারের বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে মোট তিনটি গোল করেছেন ক্রিস্টিয়ানো। যার মধ্যে দুটি ছিল গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এবং পেনাল্টি থেকে বাকি একটি করেন শেষ ৩২-এর নকআউট ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে। বুট জোড়া তুলে রাখার নির্দিষ্ট কোনো সময় এখনও প্রকাশ না করলেও, ক্রিস্তিয়ানোর চোখ এখন পেশাদার ক্যারিয়ারে ১ হাজার গোলের অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করার দিকে। তবে ব্রাজিলের ‘আসল’ রোনালদোর এই প্রকাশ্য সমালোচনা সিআরসেভেন ভক্তদের মাঝে বেশ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
