‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ ১০০ কোটির ক্লাবে, ইতিহাস গড়লেন সামান্থা রুথ প্রভু

দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারে আরও একটি অভাবনীয় ও স্বর্ণালী পালক যুক্ত করলেন। তাঁর অভিনীত ও বহুল আলোচিত তেলেগু সিনেমা ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে এক নতুন ও অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের তুমুল প্রশংসায় ভাসতে থাকা এই ছবিটি বিশ্বব্যাপী টিকিট উইন্ডো থেকে ১০০ কোটি রুপিরও বেশি আয় করার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যা একক নারীপ্রধান বা নায়িকা-কেন্দ্রিক তেলেগু সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সর্ববৃহৎ ও প্রথম বাণিজ্যিক সাফল্যের নতুন স্বীকৃতি।

বক্স অফিসে অবিশ্বাস্য এই সাফল্যের খবরটি জানার মাহেন্দ্রক্ষণটি সামান্থা অত্যন্ত আবেগঘন ও আনন্দঘন উপায়ে তাঁর ভক্তদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন। সামান্থার অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি বিশেষ ভিডিওতে দেখা যায়, ছবির অন্যতম প্রযোজক ও প্রখ্যাত নির্মাতা রাজ নিদিমোরু একটি আইপ্যাডের পর্দায় সিনেমাটির সর্বশেষ বৈশ্বিক বক্স অফিসের নিখুঁত হিসাব ও ডেটা দেখাচ্ছেন। স্ক্রিনে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০০ কোটি রুপি আয়ের সেই জাদুকরী তথ্য ভেসে উঠতেই আনন্দে ও বিস্ময়ে উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন সামান্থা। তিনি উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত ১০০ কোটি করেছি!’ ভিডিওতে পুরো টিমের উল্লাসের চিত্র নেটিজেনদের মন কেড়েছে।

সন্দিহান প্রদর্শকদের জবাব ও সামান্থার লড়াকু বার্তা

ভিডিওর ক্যাপশনে সামান্থা রুথ প্রভু সিনেমাটি নির্মাণের পেছনের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগে চলচ্চিত্র খাতের অনেক বড় বড় বিশ্লেষক এবং পরিবেশক এর ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে চরম সন্দিহান ছিলেন। এমনকি একজন বড় প্রদর্শক বা হল মালিক সরাসরি সামান্থার মুখে বলেছিলেন, “সিনেমায় কোনো বড় বা প্রথম সারির পুরুষ সুপারস্টার (নায়ক) না থাকলে সাধারণ দর্শকেরা টাকা খরচ করে শুধু নায়িকাকেন্দ্রিক সিনেমা দেখতে সিনেমা হলে আসতে মোটেও আগ্রহী হন না।”

সেই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা পুনরুল্লেখ করে সামান্থা অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, “চলচ্চিত্রের চেনা ছকে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হলে জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি নিতেই হয়। আমি সেই ঝুঁকিটাই নিয়েছিলাম।” তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’-এর এই অভাবনীয় ও রেকর্ডব্রেকিং সাফল্য ভবিষ্যতে দক্ষিণী এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রে নারীপ্রধান শক্তিশালী গল্প, ভিন্নধর্মী চিত্রনাট্য এবং নারী চরিত্রের সিনেমার প্রতি প্রদর্শক, হল মালিক, বড় প্রযোজক এবং সাধারণ দর্শকদের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা আমূল বদলে দিতে এক যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্রালালা মুভিং পিকচার্সের ব্যানারে ব্লকবাস্টার সাফল্য

জনপ্রিয় নির্মাতা নন্দিনী রেড্ডির অত্যন্ত নিপুণ ও সংবেদনশীল পরিচালনায় নির্মিত এই পারিবারিক ও সামাজিক ড্রামা ঘরানার সিনেমাটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছেন রাজ নিদিমোরু, সামান্থা রুথ প্রভু এবং হিমান্ক রেড্ডি দুভুরু। ‘ট্রালালা মুভিং পিকচার্স’-এর ব্যানারে নির্মিত এই বড় বাজেটের ছবিটি গত ১৯ জুন বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পেয়েছিল।

ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘আউটলুক ইন্ডিয়া’ (Outlook India)-র প্রকাশিত সর্বশেষ বক্স অফিস প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সিনেমাটি তার মূল নির্মাণ বাজেটের তিন গুণেরও বেশি অর্থ নিট প্রফিট বা লাভ হিসেবে তুলে এনেছে। একই সঙ্গে এটি একক কোনো নারীপ্রধান তেলেগু সিনেমা হিসেবে বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি রুপি ক্লাবে প্রবেশ করা প্রথম ঐতিহাসিক নজিরও গড়েছে। এই ছবির অনন্য চিত্রনাট্য এবং সামান্থার জীবনের অন্যতম সেরা অভিনয় মূলত এই অসাধ্য সাধন করতে সাহায্য করেছে।

একঝাঁক তারকা কাস্টিং এবং ব্যক্তিগত জীবনের জোড়া সুখবর

বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক ঘরানার মেলবন্ধনে তৈরি হওয়া ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ সিনেমাটিতে সামান্থার কেন্দ্রীয় চরিত্রের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও সমান্তরাল চরিত্রে অভিনয় করেছেন একঝাঁক প্রতিভাবান তারকা। এদের মধ্যে রয়েছেন গুলশান দেবাইয়া, দিগন্ত মানচালে, বর্ষীয়ান অভিনেত্রী গৌতমী, শ্রীমুখী এবং আনন্দ। প্রত্যেকেই নিজ নিজ চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে ছবিটিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

উল্লেখ্য, ক্যারিয়ারের এই আকাশচুম্বী পেশাদারী সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও এক দারুণ ও আনন্দময় সময় পার করছেন এই প্যান-ইন্ডিয়ান তারকা। গত বছরের ১ ডিসেম্বর ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’ ওয়েব সিরিজ খ্যাত বলিউডের নামী ও সফল নির্মাতা রাজ নিদিমোরুকে ভালোবেসে বিয়ে করেন সামান্থা রুথ প্রভু। সম্প্রতি ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’-এর এই ঐতিহাসিক শতকোটি রুপি ছোঁয়ার গ্র্যান্ড সাকসেস পার্টি বা সাফল্য উদযাপনের মঞ্চে এই তারকা দম্পতি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রথম সন্তানের আগমনের অপেক্ষায় থাকার মধুর ও আনন্দের সুখবরটিও ভক্তদের সাথে শেয়ার করেছেন। ফলে সব মিলিয়ে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে সামান্থার এই রাজকীয় সময়কে ভক্তরা দুহাত ভরে শুভকামনায় বরণ করে নিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *