চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড ও স্নাতক পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা ফ্রি করার ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ধাপে ধাপে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করবে। তিনি জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে এবং এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১১টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

৪১ লাখ পরিবার পাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, বিএনপি সরকার গঠন করলে সারা দেশে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আমরা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছি।”

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে এবং পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চার কোটি পরিবারের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রতিটি উপজেলায় ৭ হাজার পরিবার সুবিধা পাবে

সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় সাত হাজার পরিবারের নারী সদস্যের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পরিবারের নারী সদস্যদের অগ্রাধিকার দিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে সামাজিক নিরাপত্তা ও পারিবারিক কল্যাণ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।

সরকারের লক্ষ্য হলো, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের চার কোটি পরিবারের নারী সদস্যকে এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা।

নারীদের শিক্ষায় নতুন ঘোষণা

মতবিনিময় সভায় নারীদের শিক্ষা নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার দায়িত্ব পালনকালে প্রথম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাকে অবৈতনিক করেছিলেন।

সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সহজ ও বিস্তৃত করতে সরকার কাজ করবে।

মেধাবীদের জন্য থাকবে বৃত্তি

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে সরকার বৃত্তি কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করবে।

তিনি বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যাতে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

জনগণের আস্থার কথা উল্লেখ

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থনই সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি।

তিনি বলেন, “বিএনপির পাশে যতক্ষণ জনগণ থাকবে, ততক্ষণ বিএনপি কোনো বাধাকে ভয় না পেয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, জনগণের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নতুন খনন করা সরিকল খালের পাশে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এ সময় তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গঠনে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সরকার পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় নেতাদের অভ্যর্থনা

সোমবার সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গৌরনদীতে পৌঁছালে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারা তাকে স্বাগত জানান।

এ সময় বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যআয়ের পরিবারের কাছে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পর্যায়ক্রমে চার কোটি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা গেলে দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে নারীদের শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে তা দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *