রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নং সাজেক ইউনিয়নে চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রীজ হতে সাজেক ভ্যালি ও তার আশেপাশের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে চলছে এ অবরোধ। সকাল থেকে কোনো যানবাহন চলতে দেখা যায়নি সড়কগুলোতে। অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করতে দেখা গেছে।
এদিকে অবরোধের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাজেকের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জাতিগোষ্ঠীর অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় হাটের দিনেও স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। পরিবহন সংকটে জুমের উৎপাদিত ফসল হাটে নিতে পারছেন না জুমচাষীরা। স্থানীয়রা বলছেন অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে সাজেকে খাদ্যসংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দ্রুত সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, সড়ক অবরোধ চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি অবরোধে সাজেক ইউনিয়ন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে।
গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ব্যানারে দুটি সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে সাজেক ইউনিয়নে এ অবরোধের ঘোষণা দেয়।
গত ১১ অক্টোবর থেকে চলে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ। অবরোধে সাজেকে আটকা পড়ে কয়েক হাজার দেশি-বিদেশী পর্যটক। পরে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সাজেক থেকে পর্যটক ফিরিয়ে আনতে গেলে সাজেকের ওজোবাজার আটকে দেয় অবরোধকারীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পর পর্যটকবাহী নিরাপত্তা স্কটটি ছেড়ে দেয়া হয় এবং সড়ক অবরোধ ৪৮ ঘণ্টার জন্য শিথিল করা হয়। এরপর বুধবার আবার দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ ডাকা হয়। পরে পর্যটক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।
উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে রাঙ্গামাটির সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাতে জড়িয়েছে পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপ।
এ বিষয়েকথা বলেছেন সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক। তিনি বলেন, সাজেক অস্থিরতা ও জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রশাসন সাজেক বন্ধ করেছে। তবে যারা অস্ত্রের ঝনঝনানিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করবে।
সবশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে মাচালং এলাকার মন্দিরছড়া পাড়ায় গুলিবিদ্ধ হয় মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী অলেন্দ্র ত্রিপুরার মেয়ে সঞ্জিতা ত্রিপুরা (৯)। একের পর এক সংঘাত ও গোলাগুলির ঘটনায় সাজেক ইউনিয়নে ক্রমেই বেড়েছে অস্থিরতা। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। বিভিন্ন সময়ে সংগঠন দুটির মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সাজেকের এক জনপ্রতিনিধি।
এদিকে গতকাল বুধবার সাজেক খুলে দিতে খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন। প্রশাসনকে দেয়া হয় ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম।
