শেষ মুহূর্তে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, শুক্রবার বাজবে ঢাকের বাদ্য

ভক্তের হাতে ধ্বনিত ভক্তির ঘন্টা। মায়ের আগমণি বার্তা। নগরজুড়ে উৎসবের গুঞ্জন। শরতের বাতাস কানে কানে জানান দিচ্ছে, মর্ত্যে আসছেন দূর্গোতিনাশিনী। মহালয়া থেকে শুরু ক্ষণগণনা। অপেক্ষা আর একটি সূর্যাস্তের। ষষ্ঠীর আগেই প্রস্তুত থাকা চাই সব আয়োজন, তাই তোরজোড় রাজধানীর বনানী মণ্ডপে।

হরমুজের জলপথ কিংবা গঙ্গার ন্যায্য হিস্যা; দুনিয়া জুড়ে আলোচনায় জল। আর জীবনের আধার এই জলকে উপজীব্য করেই সাজানো হয়েছে বনানীর মণ্ডপ। নকশায় ঠাঁই পেয়েছে জলের পাড়ে মানুষের জীবনাচরণও।

বনানী মণ্ডপের থিম আর্টিস্ট পার্থ প্রতীম সাহা জানান, জলের নিচে থাকা সবচেয়ে সুন্দর জিনিসগুলোর মধ্যে ঝিনুক ও শঙ্খ অন্যতম। এগুলোকে কেন্দ্র করেই আমরা প্রতিমার ব্যাকড্রপ তৈরি করেছি। প্রতিমা এসে এর সামনেই স্থাপিত হবে। প্রতিমার রং, দাঁড়ানোর ভঙ্গি—সবকিছুতেই জলজ জগতের প্রতিফলন থাকবে।

ধানমন্ডি এলকার সবচেয়ে বৃহৎ পূজার আয়োজন হয় কলাবাগান মাঠে। সেখানকার প্রস্তুতিও শেষের পথে। প্রতিমা আগমণের আগেই নিরাপত্তা জোরদার। এসআরবি সদস্যরা টহল দিচ্ছেন মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে।

ধানমন্ডি মণ্ডপের আর্টিস্ট জানান, আমরা এখন কাজের সূক্ষ্ম সমন্বয় করছি এবং কিছু টাচ-আপের কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলোই সম্পন্ন করছি। কারণ, আজ থেকে লাইট সেটের কাজ শুরু হয়ে যাবে।

শারদীয় দুর্গোৎসবে সারাদেশের আগ্রহের কেন্দ্র ঢাকেশ্বরী মন্দির। এখানেও শুরু হয়ে গেছে ভক্তদের আনাগোনা। কেউ ভক্তিভরে আরতি দেখছেন; কেউ ব্যস্ত মুঠোফোনে মুহূর্ত বন্দী করতে।

সার্বিক পরিবেশ আর রাষ্ট্রের উদ্যোগে স্বস্তি মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির। বাঙ্গালী হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসবে কোন কমতি রাখতে চান না তারা।

এদিকে, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস বলেন, এবার পূজার অনুদান বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা এ বিষয়ে আশ্বস্ত ও আশাবাদী। অনুদান বেড়েছে, ছুটির সংখ্যা বেড়েছে, তাই আনন্দ-উৎসবও বাড়বে।

এবার ঢাকা মহানগরে ২৫৭টি আর সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে চলবে দেবী দুর্গার আরাধনা।

বছর ঘুরে আবারও আসছেন দেবী দুর্গা। কৈলাশ থেকে পাঁচ দিনের জন্য বাবার বাড়িতে আসছেন তিনি। এবার তার আগমন হবে ঘোড়ায় চড়ে। শাস্ত্র অনুযায়ী, ঘোড়ায় আগমনের ফলে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই ভক্তদের মনে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। তবে বিদায়ের সময় তিনি নৌকায় করে কৈলাশে ফিরে যাবেন। এর অর্থ হলো, তিনি পৃথিবীতে রেখে যাবেন একটি সুজলা-সুফলা পরিবেশ। আর তাতেই স্বস্তি খুঁজছেন ভক্তরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *