এক নারী ও গ্রাম পুলিশকে বেঁধে নির্যাতন, গলায় জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো হয় গ্রাম

রাজবাড়ী সদর উপজেলায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তুলে এক নারী ও গ্রাম পুলিশ সদস্যের কোমরে রশি বেঁধে ও জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি একটি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রাম পুলিশ। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে নির্যাতনের শিকার ওই নারীও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর একটিতে দেখা যায়, একটি ঘরে ওই নারী ও গ্রাম পুলিশের সঙ্গে কথা বলছেন ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি। ওই নারী অনৈতিক কোনো সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক করছিলেন। গ্রাম পুলিশও দাবি করেন, কলা বিক্রির টাকা নিতে আসার পর তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।

আরেকটি ভিডিওতে ওই নারী ও গ্রাম পুলিশের গলায় জুতার মালা পরিয়ে এবং কোমরে রশি বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। তাঁদের এভাবে ঘোরানো হচ্ছিল। এ সময় ঘটনাস্থলে অনেক নারী-পুরুষ ও শিশুকে দেখা যায়।

ওই গ্রাম পুলিশের দাবি, তিনি গ্রাম থেকে কলা সংগ্রহ করে রাজবাড়ীর একটি বাজারের বিভিন্ন দোকানে পাইকারি বিক্রি করেন। গত রোববার সকালে পূর্বপরিচিত ওই নারী তাঁর কাছ থেকে কলা নেন। ওই নারীর কাছে এক হাজার টাকার নোটের ভাঙতি না থাকায় পরে টাকা দেওয়ার কথা বললে তিনি চলে যান।

ভুক্তভোগী ব্যক্তি বলেন, তিনি কলার টাকা নিতে ওই নারীকে ফোন করেন। ওই নারী তাঁকে বাড়ির কাছে যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর অটোরিকশাচালক ও স্থানীয় এক বাসিন্দা তাঁকে জোর করে ঘরের ভেতর নিয়ে যান। এরপর ওই নারীর সঙ্গে তাঁর অনৈতিক সম্পর্ক আছে বলে চিৎকার করে মুঠোফোনে ভিডিও করতে থাকেন। তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়।

ওই গ্রাম পুলিশের অভিযোগ, আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে তাঁকে ও ওই নারীকে মারধর করা হয়। তাঁদের গলায় জুতার মালা পরানো হয় এবং কোমরে রশি বেঁধে ঘোরানো হয়। ওই নারীর চুলও কেটে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি মুক্ত হন।

যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ, যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমান। তিনি বলেন, গ্রাম পুলিশ সদস্য অপরাধ করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অপরাধ প্রমাণিত না হলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে গ্রাম পুলিশ ও তাঁর পরিবার সিদ্ধান্ত নেবে।

ভিডিওতে যা দেখা গেছে, তা দুঃখজনক মন্তব্য করে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘এ ধরনের ভিডিও তাঁর নজরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। এভাবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *