প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সফরে যাচ্ছেন। সফরকালে তিনি হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত দাবি-দাওয়া তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানান, প্রধানমন্ত্রীর ফটিকছড়ি সফরকে তারা আনন্দের সঙ্গে দেখছেন। আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত কিছু দাবি ও প্রস্তাব তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহেই ফটিকছড়ি সফর
আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর দৌহিত্র মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
তবে এর পরদিন থেকেই রমজান মাস শুরু হওয়ায় এবং বাবুনগর মাদরাসায় খতমে তারাবির দায়িত্ব থাকায় আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর পক্ষে ঢাকায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হলে তিনি নিজেই ফটিকছড়িতে এসে হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার দোয়া নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর এবারের ফটিকছড়ি সফর নির্ধারিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
সকালেই কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল শাখা থেকে প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সকাল ১০টার দিকে তিনি মহেশখালীতে পৌঁছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ মহেশখালীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।
কক্সবাজারের কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এরপর তিনি ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা হবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে পেলাগাজী দিঘির মাঠে হেলিকপ্টারে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ
পেলাগাজী দিঘির মাঠ থেকে প্রধানমন্ত্রী যাবেন ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায়। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করবেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে লিখিত দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
ফটিকছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশ
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়িতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন মহলেও এ সফর নিয়ে আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে বাবুনগর মাদরাসায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন এবং হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হেলিপ্যাড নির্মাণ, অনুষ্ঠানস্থল প্রস্তুত, সড়ক সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন এবং নিরাপত্তা জোরদারের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হাটহাজারীতেও থাকছে একাধিক কর্মসূচি
ফটিকছড়িতে হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে হাটহাজারীর উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
হাটহাজারীতে তিনি দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসা পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে মোনাজাতে অংশ নেবেন।
এরপর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এ কর্মসূচির মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যায় সাংগঠনিক বৈঠক
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে চট্টগ্রাম নগরীতেও কর্মসূচি রাখা হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে নগরের একটি হোটেলে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রামের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সফরের শেষ কর্মসূচি হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সবশেষে রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
প্রধানমন্ত্রীর একদিনের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
