শাহজালাল বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জে আগুন, সাময়িক বন্ধ যাত্রীসেবা

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বলাকা লাউঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে লাউঞ্জসহ আশপাশের এলাকা ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে সেখানে অবস্থানরত যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিমানবন্দর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একজন অপারেটর অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ছয়জন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের ক্ষয়ক্ষতি বা অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে হঠাৎ করেই বলাকা লাউঞ্জের ভেতরে ধোঁয়া দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো লাউঞ্জ ও আশপাশের এলাকা ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। এ সময় লাউঞ্জে থাকা যাত্রী ও অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অনেকে দ্রুত লাউঞ্জ থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

পরে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে থাকা ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বলাকা লাউঞ্জের রান্নাঘরে একটি বৈদ্যুতিক কেবল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও বিমানবন্দরে আগে থেকেই অবস্থানরত ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের তৎপরতায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

অগ্নিকাণ্ডের সময় বলাকা লাউঞ্জের যাত্রীসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না বা সম্পদের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক কেবল থেকে আগুনের সূত্রপাতের কথা বলা হলেও তদন্তের পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে অবস্থিত বলাকা লাউঞ্জ যাত্রীদের অপেক্ষা ও বিশ্রামের জন্য ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। দেশি-বিদেশি যাত্রীরা ফ্লাইটের আগে এখানে অপেক্ষা করেন। লাউঞ্জটিতে বসার ব্যবস্থা, খাবার গ্রহণ ও অপেক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের যাত্রীসেবা দেওয়া হয়ে থাকে।

বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আগুন বড় ধরনের বিপর্যয়ে রূপ নেয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *