ট্রাম্পের ৪০ কোটি ডলারের ‘বলরুম প্রকল্প’ আটকে দিলেন আদালত

ক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও প্রধান কার্যালয় হোয়াইট হাউসের পূর্বপাশে (ইস্ট উইং) ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ৪০ কোটি ডলারের ‘হোয়াইট হাউস বলরুম’ নির্মাণকাজ আটকে দিয়েছেন মার্কিন দেশের এক ফেডারেল আপিল আদালত।

গত শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) এক ঐতিহাসিক পিটিশনের রায় ঘোষণাকালে ‘ইউ.এস. কোর্ট অব অ্যাপিলস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট’ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টরা হোয়াইট হাউসের স্থায়ী মালিক নন, কেবল সাময়িক অতিথি।

আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ ও কংগ্রেসের এখতিয়ার

মামলার রায় প্রদানকালে আপিল আদালতের বিচারক বেঞ্চ তাঁদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, “প্রত্যেক প্রেসিডেন্টেরই স্মরণ রাখা উচিত যে তাঁরা হোয়াইট হাউসে সাময়িক সময়ের জন্য অতিথি মাত্র, এই ভবনের প্রকৃত মালিক নন। হোয়াইট হাউসে কোনো বিশালাকৃতির বলরুম নির্মাণ করা হবে কি হবে না—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসের (পার্লামেন্ট)। এটি রাষ্ট্রীয় নির্বাহী বিভাগের কোনো স্বেচ্ছাধীন বিষয় হতে পারে না।”

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে গত বছর হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক পূর্বাংশ ভেঙে ৯০ হাজার বর্গফুটের বিশাল বলরুম নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনায় হাত দেওয়ার আগে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন কংগ্রেসের কাছ থেকে কোনো আইনি অনুমোদন নেয়নি।

আইন অমান্য করে প্রকল্প বাস্তবায়নের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে ‘ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন’ নামের একটি ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংস্থা আপিল আদালতে পিটিশন দায়ের করে। তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চের ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠ রুলে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

হোয়াইট হাউস বলরুম বিতর্ক ও আইনি লড়াই
প্রকল্পের ব্যয় ও আয়তন: ৪০ কোটি মার্কিন ডলার; ৯০ হাজার বর্গফুট।
বাদিপক্ষ: ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন।
আদালতের অবস্থান: কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বলরুম নির্মাণ অবৈধ।
ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ: সর্বোচ্চ সুপ্রিম কোর্টে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে আপিল।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সিদ্ধান্ত

আপিল আদালতের এই আদেশের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এখন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ‘সুপ্রিম কোর্ট’-এ আবেদনের সুযোগ রয়েছে। আগামী ১৪ দিনের মধ্যে ট্রাম্পের আইনি দল আবেদন করতে ব্যর্থ হলে আপিল আদালতের এই রায়ই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

আদালতের রায়কে ‘অন্যায্য’, ‘ভয়ঙ্কর’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি লেখেন, “প্রস্তাবিত বলরুমটি আদতে একটি নিরাপত্তামূলক আধুনিক কমপ্লেক্স ইউনিট। যেখানে ভূগর্ভস্থ বোমা আশ্রয়কেন্দ্র, উন্নত মেডিকেল সুবিধা এবং আধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী শিল্ড রাখার পরিকল্পনা ছিল। আদালতের এই রায় আমাদের জীবন ও হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত সুপ্রিম কোর্টে আপিল করব।”

অন্যদিকে, বাদিপক্ষের সংস্থা ‘ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন’-এর প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ট লেগস আদালতের এই রায়কে ঐতিহাসিক অভিহিত করে বলেন, “হোয়াইট হাউসসহ যুক্তরাষ্ট্রের যাবতীয় ঐতিহাসিক স্থাপনার ঐতিহ্য রক্ষায় নাগরিকদের মতামত ও অধিকারকে আদালত পূর্ণ স্বীকৃতি দিয়েছেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *