গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল, ১৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড

গভীর সমুদ্রে বিকল ফিশিং বোট থেকে ১৮ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড: জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কলের পর অভিযান

অনলাইন ও উপকূলীয় প্রতিনিধি:

গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ভাসতে থাকা একটি ফিশিং বোটসহ ১৮ জন জেলেকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। উদ্ধারকৃত জেলেদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা ও শুকনা খাবার প্রদানের পর ফিশিং বোটসহ তাঁদের নিজ নিজ স্বজন ও মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কীভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা?

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে ‘এফবি নিশান-২’ নামের একটি ফিশিং ট্রলার ১৮ জন জেলেকে নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণ শেষে কিনারে বা তীরে ফিরছিল। পথিমধ্যে বঙ্গোপসাগরের সাঙ্গু গ্যাস ফিল্ড এলাকা থেকে প্রায় ১০ নটিক্যাল মাইল গভীরে পৌঁছালে হঠাৎ ট্রলারটির প্রধান ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফিশিং বোটটি ঢেউয়ের তোড়ে বিপজ্জনকভাবে সাগরে ভাসতে থাকে।

পরবর্তীতে দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বোটের এক জেলে কায়দা করে মুঠোফোনে ট্রলারের মালিককে বিপদের বিষয়টি জানান। খবর পাওয়া মাত্রই বোটের মালিক তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে দ্রুত উদ্ধার সহায়তা প্রার্থনা করেন। ৯৯৯ থেকে বার্তা পাওয়া মাত্রই কোস্ট গার্ড সদর দপ্তর সমন্বিত উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

কোস্ট গার্ডের ‘শ্যামল বাংলা’ জাহাজের তাৎক্ষণিক অভিযান

জাতীয় জরুরি সেবা থেকে বার্তা পেয়ে বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত টহলে থাকা কোস্ট গার্ডের আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘শ্যামল বাংলা’ জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত অক্ষাংশ চিহ্নিত করে অকুস্থলে পৌঁছায়। কোস্ট গার্ডের দক্ষ উদ্ধারকারী দল সাগরে ভাসমান বিকল ফিশিং বোটটির কাছে গিয়ে ১৮ জন জেলেকে অক্ষত ও জীবিত উদ্ধার করে জাহাজে নিয়ে আসে।

উদ্ধারের পরপরই শারীরিকভাবে অসুস্থ ও আতঙ্কিত জেলেদের জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় এবং তাঁদের মাঝে প্রয়োজনীয় খাবার বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে ট্রলারটিকে টেনে নিরাপদ উপকূলে এনে মালিকপক্ষের জিম্মায় সোপর্দ করা হয়।

কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে জেলে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে এবং এ ধরনের জরুরি উদ্ধার অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *