সরকার ব্যর্থ হলে কেউ নিরাপদ থাকবে না, নরম থাকার সময় শেষ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, “আমাদের এতদিন এতদিন নরম থাকার দরকার ছিল, আমরা নরম থেকেছি। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আর নরম থাকার কোনো উপায় নেই।”

তিনি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি এই সরকার শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, তবে মনে রাখবেন—বাংলাদেশে আর কেউ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন না। এই সরকারের চেয়ে বেশি সৎ ও আন্তরিক (Sincere) সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো আসবে না, অতীতেও ছিল না।”

গতকাল শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব স্পর্শকাতর কথা বলেন।

চিকিৎসকদের প্রতি কড়া বার্তা ও বৈষম্যবিরোধী অঙ্গীকার

চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের কাছে আমরা যে রক্তঝরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে না পারি—তবে শুধু আমরাই শেষ হব না, আপনারাও শেষ হয়ে যাবেন। কেউ নিজের বাড়িতে বা কর্মস্থলে নিরাপদে থাকতে পারবেন না। কারণ সাধারণ মানুষ এখন প্রত্যেকের অতীতের সব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ভালোভাবে সচেতন।”

দেশের স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “অনুরোধ করব, আপনারা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আর ধসিয়ে দেবেন না। আসুন, সবাই মিলে সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চিকিৎসকদেরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।”

প্রবাসীদের অবদান ও তরুণ প্রজন্ম গড়ার তাগিদ

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বিদেশে লাখ লাখ বাংলাদেশি তরুণ-যুবক রাতদিন কঠোর পরিশ্রম করছেন। তাঁরা যদি কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স না পাঠাতেন, তবে এতদিন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শূন্য হয়ে যেত। দেশের মানুষ না খেয়ে থাকত, সরকারি বা বেসরকারি বেতনও কেউ পেতেন না।”

সারাবিশ্বে বাংলাদেশি তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের এমন এক সুঠাম, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ও মেধাবী তরুণ প্রজন্ম তৈরি করতে হবে, যারা তাদের দক্ষতা দিয়ে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করবে।”

পরিদর্শনকালে জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *