সাধারণ এক বাস কন্ডাক্টর থেকে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের সর্বকালের অন্যতম সেরা মহাতারকা বা ‘থালাইভা’ হয়ে ওঠার রোমাঞ্চকর পথচলা যেন যেকোনো কাল্পনিক সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। দীর্ঘ পাঁচ দশকের এই অবিশ্বাস্য, বর্ণাঢ্য ও অনুপ্রেরণাদায়ক যাত্রাপথ এবার নিজের হাতে লেখা বইয়ে বন্দি করতে যাচ্ছেন স্বয়ং রজনীকান্ত।
কেবল আত্মজীবনীমূলক বই প্রকাশের খবরই নয়; সিনেপাড়ায় জোড় গুঞ্জন উঠেছে—তাঁর এই জীবনী নিয়ে একটি মেগা বায়োপিক সিনেমাও নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে।
কন্ডাক্টর জীবন থেকে ‘কলিউড’ রাজত্বের অজানা গল্প
রজনীকান্তের জীবনের গল্প নিয়ে কোনো উড়ো খবর বা অনুমানের স্থান নেই, কারণ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন তাঁর কন্যা সৌন্দর্যা রজনীকান্ত। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বাবা ইতিমধ্যে বইটির পাণ্ডুলিপি লেখার কাজ পুরোদমে শুরু করে দিয়েছেন।
ব্যাঙ্গালোরে বাস কন্ডাক্টর হিসেবে কাটানো কঠিন সংগ্রামের দিনগুলো, জীবনযুদ্ধের গল্প এবং পরবর্তীতে তামিল চলচ্চিত্র শিল্প বা ‘কলিউডের’ অবিসংবাদিত সুপারস্টার হয়ে ওঠার পেছনের অনেক অজানা অধ্যায় প্রথমবার এই বইয়ের মাধ্যমে ভক্তদের সামনে উন্মোচিত হবে। জানা গেছে, উটির মনোরম পরিবেশে ছুটির অবসরে বইটির লেখার কাজ তিনি অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছেন।
বই থেকে আসছে বায়োপিক?
চলচ্চিত্র বিষয়ক পোর্টাল ‘মুভিজ সিঙ্গাপুর’-এর একটি প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, আত্মজীবনীমূলক এই বইটির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য বায়োপিক সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে প্রজেক্টটি এখনো প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা বা পরিচালকের নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।
দক্ষিণী ও সর্বভারতীয় চলচ্চিত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননাগুলোর মধ্যে পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ এবং দেশের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মাননা দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর এই আত্মজীবনী প্রকাশের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে ছড়ানো কোটি ভক্তের মাঝে বইটিকে ঘিরে তুমুল আগ্রহ ও উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে।
