সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার কারসাজির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান-সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার কারসাজি, ভয়াবহ জালিয়াতি ও কোটি কোটি টাকা অর্থপাচারের (মানি লন্ডারিং) অভিযোগে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে আদালত। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

আজ সোমবার (২৭ জুলাই) মামলার তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের ধার্য দিন ছিল। তবে নির্ধারিত দিনে সংস্থাটি প্রতিবেদন প্রস্তুত ও দাখিল করতে না পারায় ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নতুন এই দিন নির্ধারণ করেন।

আদালতের দুদকের জিআর (GR) শাখার কর্মকর্তা আক্কাস আলী বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

উচ্চপর্যায়ের ১৫ আসামি ও অভিযোগের বিবরণী

ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান ছাড়াও এই আলোচিত মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন: ১. সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক আবুল খায়ের

২. তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান

৩. আবুল কালাম মাদবর

৪. কনিকা আফরোজ

৫. মোহাম্মদ বাশার

৬. সাজেদ মাদবর

৭. আলেয়া বেগম

৮. কাজি ফুয়াদ হাসান

৯. কাজি ফরিদ হাসান

১০. জাভেদ এ মতিন

১১. জাহেদ কামাল

১২. হুমায়ূন কবির

১৩. তানভীর নিজাম

২৫৬ কোটি টাকার প্রতারণা ও শেয়ারবাজারে কারসাজি

মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেদের ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিও (BO) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অবৈধভাবে ‘সিরিজ ট্রানজেকশন’, প্রতারণামূলক ‘অ্যাক্টিভ ট্রেডিং’, ইনসাইডার গ্যাম্বলিং ও স্পেকুলেশন চালিয়ে আসছিলেন। এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে কৃত্রিম উপায়ে নির্দিষ্ট কিছু দুর্বল ও বন্ধ কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়ে বাজারে তীব্র কারসাজি সৃষ্টি করা হয়।

আসামিদের এই কৃত্রিম দাম বৃদ্ধির ফাঁদে পা দিয়ে সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সর্বস্ব হারিয়ে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের এই চক্রান্তের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকার সরাসরি ক্ষতি হয়েছে।

এই সুনির্দিষ্ট আর্থিক কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির মারাত্মক অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের ১৭ জুন মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *