চাঁদপুরের ইলিশের নামে অনলাইন প্রতারণা, সতর্ক করল প্রশাসন

সুস্বাদু ও রূপালি তাজা ইলিশের ভৌগোলিক ঐতিহ্য বা জিআই (GI) পণ্য ‘চাঁদপুরের ইলিশ’-এর দেশজোড়া সুনামকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একদল অসাধু অনলাইন প্রতারক চক্র। ফেসবুকে আকর্ষণীয় ভুয়া পেজ খুলে ও বাজারের চেয়ে কম দামে ইলিশ সরবরাহের লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

প্রশাসনের নানা কঠোর আইনি পদক্ষেপ সত্ত্বেও প্রতারকরা কৌশলে রূপ বদলে প্রতিনিয়ত এই প্রতারণা অব্যাহত রেখেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা: অগ্রিম টাকা নিলেই উধাও!

চক্রটির পাতা ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।

  • ঠাকুরগাঁওয়ের ভুক্তভোগী হিম: ফেসবুকে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’ পেজের বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করে ১১ হাজার টাকা বিকাশ/নগদে পাঠান। কিন্তু মাছ না পাঠিয়ে উল্টো অ্যাকাউন্ট চালুর নামে আরও টাকা দাবি করা হয়।
  • শরীয়তপুরের মিন্টু মাদবর: ‘রুপালি ইলিশের সেরা চাঁদপুর’ নামক পেজে যোগাযোগ করে ১১ হাজার টাকা অগ্রিম পরিশোধের পর কোনো ইলিশ পাননি।

প্রতারণার কৌশল

১. কম দামের প্রলোভন: আসল ইলিশের নাম ভাঙিয়ে বাজারমূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক কম দামে ইলিশ বিক্রির পোস্ট দেয় চক্রটি। ২. ছবি ও ভিডিও চুরি: চাঁদপুরের নিবন্ধিত আসল ব্যবসায়ী কিংবা চাঁদপুর আড়তের পুরোনো লোগো, ছবি ও ভিডিও চুরি করে নিজেদের পেজে ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে। ৩. অগ্রিম অর্থ আদায়: বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পুরো টাকা বা ডেলিভারি চার্জের নামে টাকা অগ্রিম পাওয়ার পর গ্রাহকের ফোন নম্বর বা ফেসবুক আইডি ব্লক করে দেয়।

জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ: নিবন্ধিত অনলাইন ব্যবসায়ী

অনলাইন ভিত্তিক জালিয়াতি ও প্রতারণা রুখতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ৭টি সংস্থাকে যোগ্যতা সাপেক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইন ইলিশ বিক্রির অনুমোদন ও নিবন্ধন দিয়েছে। এই নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের তালিকা জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের অন্যতম শর্ত হলো—তারা ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ (Cash on Delivery) পদ্ধতিতে হাতে মাছ পৌঁছানোর পর মূল্য গ্রহণ করে থাকেন।

প্রশাসনের কড়া বার্তা ও পরামর্শ

জেলা প্রশাসন ও পুলিশের স্পষ্ট নির্দেশনা:

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও পৌর প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন এবং চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের তালিকাভুক্ত পেজ ছাড়া অন্য কোনো অজানা বা ভুয়া অনলাইন পেজ থেকে ইলিশ কেনা থেকে বিরত থাকুন। কোনো ক্রেতা প্রতারণার শিকার হলে সরাসরি নিকটস্থ থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির পরামর্শ:

চাঁদপুর মাছ ঘাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুরুল আমিন ও মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত আলী এবং নিবন্ধিত ব্যবসায়ী খোকন পাটওয়ারী ক্রেতাদের উদ্দেশে স্পষ্ট অনুরোধ জানান:

  • পণ্য বা ইলিশ মাছ নিজের হাতে বুঝে পাওয়ার আগে এক টাকাও অগ্রিম পরিশোধ করবেন না
  • কেবল ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ বা নির্ভরযোগ্য পরিচিত সূত্রের মাধ্যমে ইলিশ ক্রয় করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *